Pagesবিষয় কাশ্মীর অনেকদিন ভাটাইনি, নিজের প্রচন্ড ব্যস্ততা সাথে কিছু মনের খিচখিচানিতে লিখতে মন করছি

Thursday, July 18, 2019

ব্যালান্স খেলা

ব্যালেন্স খেলা দ্যুতি পৃথিবীটা মাঝে মাঝে কেমন অচেনা লাগে। সেই অচেনা পৃথিবীতে চলতে বেশ অন্যরকম লাগে। একটু হাতড়ে বেড়াই, কিছু সহায় খুঁজি, কিছু খড়কুটোর দাম বেড়ে যায় নিজের কাছে। বড় বড় গাছগুলোকে বেচারা লাগে। প্রহসন করি বেঁচে থাকা নিয়ে। সামনে দিয়ে একটা একটা স্ক্রিনশট ছিটকে যায়, আবার কোনোটা আটকে থাকে পাঁজরের খাঁজে। একটা ছেলে মায়ের হাত ধরে বড় রাস্তা দিয়ে হাঁটছে, মা ছাতা ধরে, ছেলেটা অনেক ছোট, ছাতা দিয়ে তার মাথা আগলানো যায় না, কিন্তু মায়ের মন, তাই ছাতা রোদ্দুর আগলানোর গল্প এক হয়ে যায়। ছেলেটা রাস্তা দিয়ে হাঁটে আপন মনে। পা গুলো এলোমেলো ফেলে। পিচ রাস্তার ধারেই ঢালু লাল রাস্তা। ছেলেটা ওই দুই তলের মধ্যে ব্যালেন্স ব্যালেন্স খেলে। সামনে ছায়ার সাথে ধরাধরি খেলে। দুজনের জগৎ দুই কথা বলে। মা নিরাপত্তা খোঁজে, ছেলে খোঁজে মজা, আনন্দ। ব্যালেন্স করে চলায় মজা পায় ছোট্ট কেজি টুয়ে পড়া ছেলেটা। তার বাবাও কিছুদিন আগে জমির আল ধরে ওরকম ব্যালেন্স ব্যালেন্স খেলতো। তারপর শহরে পড়তে আসা, বিয়ে, ঘর,সংসার কত কি! এই ছেলেটাও বড় হবে, ব্যালেন্স ব্যালেন্স খেলবে সারাজীবন। কিন্তু আর এই আনন্দটা পাবে না। আর মা এমন ছাতা ধরে থাকবে না তার জন্য। মা মানে পুজোর শাড়ি। মা মানে একটা দুটো সেল্ফি, জড়িয়ে চুমু, মা মানে স্কাইপি, হোয়াটসঅ্যাপ কল, মা মানে ফোনের বিল, ইলেক্ট্রিক বিল,কেবল চ্যানেল, ধূপ ধুনো পুজোপাট। হঠাৎ ছাতাটা বড্ড দরকার লাগে, রোদ টা বড্ড কড়া লাগে, বুকের সেই পাঁজরের খাঁজে গুঁজে রাখা স্ক্রিনশট জীবন্ত হয়। বলে, ' খোকা, এসেছিস?' খোকা ছাতা খোঁজে, আজও খোকা সেই ধার দিয়ে হাঁটে, ধার গুলো আজ আরো এবড়োখেবড়ো, আরো বড় ব্যালেন্স খেলা খেলে খোকা। আজ সে সেই ছাতাটা খোঁজে, ছাতার আড়ালে চোখের জল বাষ্প হয়। খোকার মা আজ ব্যালেন্স খেলে। লগবগ ডগবগ! খোকার মা ব্যালেন্স খেলে। লগবগ ডগবগ!

No comments: